TechJano

ক্যারিয়ার গড়তে শীর্ষ ১০ এআই প্রতিষ্ঠান | ফোর্বস র‍্যাঙ্কিং

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় কাজ করার সুযোগ থাকায় বর্তমানে এআই (AI) পেশাদারদের চাহিদা তুঙ্গে। ২০২৬ সালে ভবিষ্যতের রূপকার হিসেবে ফোর্বসের তালিকায় স্থান করে নেওয়া শীর্ষ ১০টি এআই প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

অটোমেশন ও এআই-এর উত্থান দ্রুত ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। এটি প্রশাসনিক কাজ কমিয়ে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে।

তবে এআই একটি দুধারী তলোয়ার। একদিকে যেমন এটি নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে কিছু প্রচলিত পেশাকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই বিশ্বজুড়ে ৯ কোটি ২০ লাখ কর্মসংস্থান হরণ করবে, তবে বিপরীতে তৈরি করবে ১৭ কোটি নতুন কাজের সুযোগ। তাই ক্যারিয়ারকে সুরক্ষিত রাখতে এখনই কোনো এআই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উপযুক্ত সময়।

সম্প্রতি মেরিটেক ক্যাপিটাল এবং সেকুয়া ক্যাপিটালের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের শীর্ষ ৫০টি এআই প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। এই তালিকা থেকে ব্যবসায়িক শিক্ষা সম্পন্ন করা স্নাতকদের জন্য সেরা ১০টি প্রতিষ্ঠান নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ওপেনএআই (OpenAI) শীর্ষ এআই তালিকার সবচেয়ে পরিচিত নাম ওপেনএআই। চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলা এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ১০০ কোটি ছোঁয়ার পথে। এমবিএ বা বিজনেস মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের জন্য এখানে মার্কেটিং, অপারেশনস, লিগ্যাল ও হিউম্যান রিসোর্স বিভাগে কাজের বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে।

২. অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিকে ওপেনএআই-এর সবচেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি চ্যাটজিপিটিকে ছাড়িয়ে অ্যাপ স্টোরের শীর্ষ ডাউনলোড করা অ্যাপে পরিণত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৯০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। নৈতিক এআই তৈরিতে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানে বিজনেস স্নাতকদের জন্য ‘ফেলোশিপ প্রোগ্রাম’-এর সুযোগ রয়েছে।

৩. ডেটাব্রিকস (Databricks) ডেটা, অ্যানালিটিকস এবং এআই-এর ক্ষেত্রে ডেটাব্রিকস বিশ্বজুড়ে একটি নেতৃস্থানীয় নাম। বিশ্বের ২০ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের ডেটা সংরক্ষণে এটি ব্যবহার করে। ২০টিরও বেশি দেশে ৩০টির বেশি অফিস রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

৪. নোশন (Notion) ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নোশন ব্যক্তিগত ও ছোট দলের কাজের সমন্বয়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই প্রতিষ্ঠানে ফাইন্যান্স, সেলস ও মার্কেটিং বিভাগে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।

৫. পারপ্লেক্সিটি (Perplexity) এআই-চালিত সার্চ ইঞ্জিন পারপ্লেক্সিটি প্রথাগত সার্চ ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন বিজনেস স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ‘এন্টারপ্রাইজ প্রো’ সংস্করণ ব্যবহারের সুবিধাও দিচ্ছে। এখানে এআই ইঞ্জিনিয়ার ও প্রোডাক্ট মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

৬. ডেকগন (Decagon) ডেকগন মূলত এন্টারপ্রাইজগুলোর জন্য এআই-চালিত কাস্টমার সাপোর্ট এজেন্ট তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি এমন এআই তৈরি করতে চায় যা একজন মানুষের চেয়ে ১০ গুণ দক্ষ। ডুলিঙ্গো ও হার্টজের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো তাদের গ্রাহক।

৭. সেফ সুপারইন্টেলিজেন্স (SSI) ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুতস্কেভার ২০২৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই তৈরি করা। এখানে কর্মী সংখ্যা সীমিত হলেও এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য এটি সেরা জায়গা।

৮. কারসর (Cursor) এমআইটির চার শিক্ষার্থীর হাত ধরে ২০২২ সালে কারসরের যাত্রা শুরু। এটি এআই-চালিত একটি কোড এডিটর যা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টকে অনেক দ্রুত ও সহজ করে তোলে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পাওয়ার আলোচনা চালাচ্ছে।

৯. অ্যাব্রিজ (Abridge) স্বাস্থ্যসেবা খাতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অ্যাব্রিজ। চিকিৎসকদের প্রশাসনিক কাজের চাপ কমিয়ে রোগীদের সেবায় বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেয় এই এআই টুলটি। যারা হেলথকেয়ার সেক্টরে বিশেষজ্ঞ, তাদের জন্য অ্যাব্রিজ একটি চমৎকার কর্মস্থল।

১০. হার্ভে (Harvey) আইনজীবীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি জেনারেটিভ এআই প্ল্যাটফর্ম হার্ভে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দেড় হাজার ল ফার্মের ১ লাখেরও বেশি আইনজীবী এটি ব্যবহার করছেন। ২০২৬ সালের মার্চে এর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ বিলিয়ন ডলারে।

ফোর্বসের এই তালিকা থেকে স্পষ্ট যে, এআই-এর গতিশীল বিশ্বে বিজনেস স্নাতকদের জন্য রয়েছে উদ্ভাবনী ও রোমাঞ্চকর সব ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।

Exit mobile version