TechJano

বাংলাদেশের রেকর্ড সাফল্য: চার রৌপ্য ও দুই ব্রোঞ্জপদক জয়

১৬ তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (আইজেএসও) বাংলাদেশ চারটি রৌপ্য ও দুইটি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে। ৭০টি দেশের অংশগ্রহণে অনুর্ধ্ব-১৬ বয়সীদের আন্তর্জাতিক এই অলিম্পিয়াডটি কাতারের রাজধানী দোহায় ৩-১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬ সদস্যের বাংলাদেশ দল অংশ নিয়ে সবাইই পদক জয়ের গৌরব অর্জন করে। ১১ ডিসেম্বর দুপুরে দোহায় কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে রৌপ্যপদক জয় করেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের অভিষেক মজুমদার সন্তু, বরিশাল ক্যাডেট কলেজের মুহতাসিন আল ক্বাফি, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের কাজী তাসফিয়া জাহিন, ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের জাকিয়া তাজনূর চৌধুরী দিয়া। এছাড়া ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের জুহায়ের মাহদিউল আলম আশফি এবং গ্রীন ফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের আহমেদ আল-জুবায়ের আনাম।

কাতার থেকে বাংলাদেশ দলের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী জানান, “এ যাবৎকালে আইজেএসও-তে এটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য। ৫ম বারের মত আমরা এখানে অংশ নিয়েছি। বিজয়ের মাসে বাংলাদেশের এমন সাফল্যে আমি আনন্দিত ও গর্বিত”।

বাংলাদেশ দলের পক্ষে রৌপ্যপদক জয়ী অভিষেক মজুমদার সন্তু বলেন, “ গতবার বৎসোয়ানায় আমি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছিলাম। তখন থেকেই আমার চেষ্টা ছিল এবছর আরও ভালো করা। এবছর বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প অনেক বেশিদিন ধরে হয়েছে এবং ল্যাবের প্রস্তুতিতে জোর দেয়া হয়েছে। যা আমাকে এবং আমাদের দলকে এমন সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করেছে। আমি আনন্দিত।” কাতারে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ছাড়াও রয়েছেন দলনেতা অধ্যাপক ফারহানা মান্নান ও বিডিজেএসও কো-অর্ডিনেটর মাহমুদ মীম। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ফিরবে বাংলাদেশ দল। ঢাকা এয়ারপোর্টে দলকে সংবর্ধনা দেবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি।

বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের পৃষ্ঠপোষক আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের ছয় জনের পদক অর্জনে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দল চতুর্থবারের মত অংশ নিয়েছে। ৭০ দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের উপর প্রতিযোগিতা করে এই গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। গত ৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীরা এমসিকিউ, থিওরি ও ব্যবহারিক অংশের পরীক্ষা দেয়। উল্লেখ্য, এর আগে চার বছরে বাংলাদেশ দল ৬ টি রৌপ্য ও ১১ টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছিলো।

ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দলের এ বাছাইপর্ব শুরু হয় জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ৫ম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের (বিডিজেএসও) আঞ্চলিক পর্বের মধ্য দিয়ে। ৮ টি আঞ্চলি​ক পর্ব, ৭ টি স্কুল অলিম্পিয়াড ও একটি ই-অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্য হতে বিজয়ী ৬০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় ৫ম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বে। জাতীয় পর্বে বিজয়ী হয় ৫২ জনকে নিয়ে ১১-১৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় ৫ম বিডিজেএসও ক্যাম্প। ক্যাম্পের ফলাফল বিবেচনা করে বাছাই করা ১৩ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ১৪-১৭ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয় বিডিজেএসও এক্সটেনশন ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত টিম সিলেকশন টেস্টের ফলাফল ও তাদের অলিম্পিয়াডের পারফর্মেন্স বিবেচনা করে ঘোষণা করা হয় ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল।

সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কয়েকটি ধাপে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বাংলাদেশ দলকে। ভলান্টিয়ারস এসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ ও আপন উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের ডরমিটরিতে তিন ধাপে মোট ২১ দিনের আবাসিক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মাকসুদুল আলম বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি (ম্যাসল্যাব)-এ আয়োজিত হয় তিন দফায় ১৫ দিনের অনাবাসিক ক্যাম্প। ল্যাবরেটরি ক্লাসগুলো অনুষ্ঠিত হয় ম্যাসল্যাবে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে ১০০ ঘণ্টার বেশি থিওরি ক্লাস, ৫০ ঘণ্টার বেশি ল্যাবরেটরি ক্লাস ও প্রায় ৭০ ঘণ্টার প্রশ্ন সমাধান ক্লাসে অংশ নেয় ১৬তম আইজেএসও-তে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের ছয় সদস্য। ক্লাসগুলি পরিচালনা করেন বিডিজেএসও এর স্বেচ্ছাসেবকেরা ।

উল্লেখ্য, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচন করে যৌথভাবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানটির সহযোগী হিসেবে রয়েছে প্রথম আলো। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে আছে কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা। টেলিভিশন পার্টনার হিসেবে নাগরিক টিভি ও নলেজ পার্টনার হিসেবে আছে ম্যাসল্যাব, ইন্টারনেট পার্টনার অ্যাম্বার আইটি এবং রেডিও পার্টনার হিসেবে ছিল ঢাকা এফ এম। বিশেষ সহযোগী হিসেবে ছিল ভলান্টিয়ার্স এ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ।

Exit mobile version