TechJano

মাইগভে ১৫ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ১৯ ধরনের নাগরিক সেবা চালু

ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদ কিংবা পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য এখন অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবাগ্রহীতারা। দেশের ১৫টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ১৯ ধরনের নাগরিক সেবা যুক্ত হয়েছে সরকারি সেবার প্ল্যাটফর্ম ‘মাইগভ’-এ। এসব সেবার জন্য বোর্ডভেদে মোট ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফরম উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য দেন সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামীম আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স অধিশাখার যুগ্মসচিব ও এটুআই এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) শেখ জাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. আব্দুল করিম এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার শেহেলী লায়লা। এতে অধিদপ্তর ও এটুআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের উদ্যোগে সেবাগুলো মাইগভে যুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এটুআইয়ের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

নতুন ব্যবস্থায় সেবাগ্রহীতারা ঘরে বসে আবেদন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইনে ফি পরিশোধ এবং কিউআর কোডযুক্ত সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদনের অগ্রগতি জানা ও সেবা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার সুযোগও থাকছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা যাবে।

মাইগভে যুক্ত হওয়া সেবার মধ্যে রয়েছে নাগরিকত্ব, উত্তরাধিকার, চারিত্রিক ও পারিবারিক সনদ; ট্রেড লাইসেন্স; পরিচয়পত্রসংক্রান্ত সেবা; পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ এবং যানবাহনের পাস। এ ছাড়া সড়ক খনন বা রাস্তা কাটার অনুমতি, রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশার লাইসেন্স, পোষা প্রাণী পালনের অনুমোদন এবং ডেভেলপার তালিকাভুক্তির সেবাও এর অন্তর্ভুক্ত।

আয়োজকরা জানান, প্রচলিত ব্যবস্থায় আবেদন দাখিল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, ফি পরিশোধ ও সনদ সংগ্রহের জন্য সেবাগ্রহীতাদের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কার্যালয়ে যেতে হতো। একটি সেবা পেতেও একাধিকবার যাতায়াতের প্রয়োজন হতো। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো তাঁদের। এসব সমস্যা কমিয়ে সেবা সহজ করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

এ কার্যক্রমের শুরু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি সেবা মাইগভে যুক্ত করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। এরপর বাকি ১৪টি বোর্ডের সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চলতি বছরের মার্চে তিনটি কর্মশালায় ৬৩ ধরনের নাগরিক সেবা পর্যালোচনা করে ১৯ ধরনের মৌলিক সেবা চিহ্নিত করা হয়। পরে সাতটি আঞ্চলিক কর্মশালায় অনলাইন আবেদন ফরম, সেবা ফি ও সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

একই প্ল্যাটফর্মে আবেদন গ্রহণ, যাচাই, তদন্ত, প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলো। এর মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজে কাগজনির্ভরতা কমানো এবং সেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

 

Exit mobile version