TechJano

সামাজিক মাধ্যম থেকে আয়ের উপায়

রাত জেগে লক্ষ্যহীনভাবে স্ক্রলিং করা বন্ধ করুন। বরং আপনার ফেসবুক ও টিকটক রিলস আসক্তিকেই আয়ের উৎসে রূপান্তর করার কৌশলটি শিখে নিন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের একজন মানুষ গড়ে দিনে অন্তত দেড় ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় করেন। তবে আপনি যদি এতে আসক্ত হন, তবে নিশ্চয়ই ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এর চেয়েও অনেক বেশি সময় কাটান।

আপনার এই একনিষ্ঠতাকে কেন টাকা আয়ের কাজে লাগাচ্ছেন না? সামাজিক মাধ্যমের সঠিক ব্যবহার জানলে এটি বেশ লাভজনক একটি ব্যবসা হতে পারে। মাত্র ১,০০০ ফলোয়ার থাকলেও আপনি ‘ন্যানো-ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করতে পারেন। তবে ফলোয়ার যত বেশি হবে, কাজটা তত সহজ হবে।

টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক বা স্ন্যাপচ্যাট—যে মাধ্যমই হোক না কেন, আয়ের জন্য যা জানা প্রয়োজন:

আয়ের জন্য কত ফলোয়ার প্রয়োজন?
বেশি ফলোয়ার মানেই কি বেশি টাকা? উত্তরটি ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ উভয়ই। অনেকে মনে করেন সামাজিক মাধ্যম থেকে আয় করতে হলে লাখ লাখ ফলোয়ার প্রয়োজন। এটি মোটেও সত্যি নয়। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড সংখ্যার চেয়ে গুণমানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা বিশাল অংকের বিনিময়ে কোনো সেলিব্রিটির চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দক্ষ বা যাদের ফলোয়াররা বেশি সক্রিয়, এমন সাধারণ মানুষকে দিয়ে পণ্য প্রচার করাতে বেশি আগ্রহী। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ফলোয়ার যদি কমও হয় কিন্তু আপনি প্রমাণ করতে পারেন যে তারা মূলত ১৮-২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী, তবে সেটিই আপনার বড় শক্তি। অর্থাৎ, আপনার কত ফলোয়ার আছে তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো আপনার ফলোয়ার কারা।

তবে আয়ের জন্য একটি সম্মানজনক সংখ্যায় ফলোয়ার থাকা জরুরি। অন্তত ১,০০০ ফলোয়ার থাকলে আপনি অল্প স্বল্প আয় শুরু করতে পারেন।

সামাজিক মাধ্যম থেকে কত টাকা আয় করা সম্ভব?
ইনস্টাগ্রাম বা ব্লগের মাধ্যমে আয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। অনেকের জন্য এটি এখন পূর্ণকালীন পেশা। ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত একটি পোস্টের জন্য ১০ থেকে ১০,০০০ পাউন্ড (বা তার বেশি) পর্যন্ত দিয়ে থাকে। যাদের ফলোয়ার ৭৫,০০০-এর বেশি, তারা বছরে ১,০০,০০০ পাউন্ডেরও বেশি আয় করতে পারেন।

তবে ডায়েটিশিয়ান এবং সফল ইনফ্লুয়েন্সার চার্লি ওয়াটসন জানান, এই কাজ সবসময় ততটা গ্ল্যামারাস নয় যতটা লোকে ভাবে। পিআর কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সময়মতো পেমেন্ট বুঝে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র (Niche) খুঁজে নিন
সামাজিক মাধ্যমে টিকে থাকতে হলে আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা কিছু করতে হবে। এর মানে এই নয় যে আপনাকে খুব অদ্ভুত কিছু করতে হবে, বরং আপনার পছন্দের বা আপনি ভালো বোঝেন এমন একটি নির্দিষ্ট বিষয় খুঁজে নিতে হবে। ধরুন আপনি ভ্রমণ পছন্দ করেন। ঢালাওভাবে সব ভ্রমণের কথা না লিখে আপনি কেবল ‘বাজেট ট্রাভেল’ বা ‘ট্রেন ভ্রমণ’ নিয়ে কাজ করতে পারেন। নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দক্ষ হয়ে উঠলে গ্রাহক ও ব্র্যান্ডের আস্থা পাওয়া সহজ হয়।

ফলোয়ার বৃদ্ধির কৌশল
ফলোয়ার রাতারাতি বাড়ে না। চার্লি ওয়াটসনের মতে, ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে গড়ে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। তবে কিছু কৌশল এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে:

নিয়মিত পোস্ট: সপ্তাহে অন্তত ৩-৫ দিন নির্দিষ্ট সময়ে পোস্ট করুন।

অ্যাকাউন্টগুলোর সংযোগ: ইনস্টাগ্রামের সাথে ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্ট যুক্ত রাখুন।

পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া: আপনার বিষয়ের অন্যান্য ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্র্যান্ডের পোস্টে লাইক ও কমেন্ট করুন।

হ্যাশট্যাগ ও কিওয়ার্ড: পোস্টের রিচ বাড়াতে প্রাসঙ্গিক হ্যাশট্যাগ ও কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

ভিডিও ও স্টোরি: সরাসরি কথা বলে ভিডিও বা স্টোরি পোস্ট করলে অনুসারীদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ তৈরি হয়।

কিভাবে মনিটাইজ করবেন?
১. ব্র্যান্ড প্রমোশন: ব্র্যান্ডের পণ্য প্রচার করে টাকা নেওয়া। ‘TRIBE’ বা ‘TAKUMI’-এর মতো অ্যাপগুলো এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: পোস্টে পণ্যের লিঙ্ক শেয়ার করা। কেউ সেই লিঙ্কে ক্লিক করে কিছু কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। এ জন্য ‘Rakuten’ বা ‘Amazon Associate’ প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়া যায়।
৩. ডিজিটাল পণ্য বিক্রি: আপনার যদি কোনো বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান থাকে, তবে ই-বুক বা অনলাইন কোর্স তৈরি করে ‘Gumroad’ বা ‘Udemy’-এর মতো প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করতে পারেন।

মনে রাখবেন, সামাজিক মাধ্যমে আয়ের মূল চাবিকাঠি হলো মানুষের ‘আস্থা’। কেবল আপনি নিজে বিশ্বাস করেন এমন পণ্য বা সেবারই প্রচার করুন। ফলোয়ার কেনার মতো সস্তা বুদ্ধি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

Exit mobile version