TechJano

হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে চান? কিছু কৌশল মেনে চলুন

হ্যাকিং করাটা বোধ হয় ইদানীং বেশ সোজাই হয়ে গেছে। আজকাল সবার অনলাইন অ্যাকাউন্টই তাই কমবেশি হ্যাকিংয়ের ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বর্তমানে হ্যাকারের হাত থেকে নিরাপদ নয় কেউই। বিভিন্ন কোম্পানি, বিখ্যাত তারকা এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানও হ্যাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তবে হ্যাকিং ঠেকাতে সহজ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন আপনিও।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন/ টু স্টেপ-ভেরিফিকেশন

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত সব জায়গাতেই টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনের অপশন চালু করতে পারেন আপনি। এই অপশন চালু করা থাকলে প্রতিবার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করার সময়ে আপনার মোবাইলে মেসেজ আকারে একটি কোড আসবে এবং তা ছাড়া আপনি লগ ইন করতে পারবেন না। এই অপশন চালু থাকার সুবিধাটি হলো, হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জেনে ফেললেও আপনার মোবাইলে আসা কোডটি ছাড়া সে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।

স্মার্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

যেসব অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাইটে আপনার স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে, সেগুলোতে দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে পাসওয়ার্ড জটিল করে তুলুন। প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে ‘লাসপাস’ বা ‘পাসওয়ার্ড সেফ’ কাজে লাগতে পারে। প্রতিবছর অন্তত একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না

অনেকেই একাধিক পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারেন না। কিন্তু তাই বলে সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাটা মোটেই নিরাপদ নয়। তা করলে খুব সহজেই আপনার অ্যাকাউন্টে প্রইবেশ করতে পারে হ্যাকাররা।

ফোনের ওয়াই-ফাই মাঝে মাঝে বন্ধ রাখুন

সব সময় ফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখবেন না। হ্যাকারদের ঝোঁকই হচ্ছে এ ধরনের সুযোগ খোঁজা। সব সময় ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও ফোনের মধ্যে কী আছে, তা দেখার জন্য চেষ্টা চালায়।

আপডেট দিতে ভুলবেন না

উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে আপডেট নেওয়াটা অনেকেরই অপছন্দ। তারা একে অযথা সময় নষ্ট মনে করেন। কিন্তু এসব আপডেট আপনার কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখতেই সাহায্য করে। তাই সবসময় আপডেটেড রাখুন আপনার কম্পিউটারকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবধান

হ্যাকাররা আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখতে পারে। আপনি কত খরচ করছেন, কোথায় খরচ করছেন, কখন দেশের বাইরে থাকবেন, কখন মিটিং এর জন্য ফোন বন্ধ রাখবেন এ সব তথ্যই তারা ফেসবুক বা টুইটার থেকে সংগ্রহ করতে পারে। হয়তো আপনি অ্যামাজন থেকে কোনো পণ্যের ডেলিভারি নেবেন। তারা ওই কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে আপনাকে ফোন করে আপনাকে বলতে পারে নতুন করে লগ ইন করে ডেলিভারি কনফার্ম করতে হবে। লগ ইন করতে গিয়ে আপনি হয়ত ভুয়া ওয়েবসাইটে নিজের তথ্য দিয়ে ফেললেন। এভাবে তারা আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার সুযোগ পায়। প্রশ্ন হলো, আপনি যে অ্যামাজন থেকে ডেলিভারি নেবেন তারা জানলো কী করে? হয়তো ফেসবুকে আপনি এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। সুতরাং এসব বিষয়ে সাবধান থাকুন।

ব্যক্তিগত তথ্য

অনেক সময়েই দেখা যায়, আপনাকে কল দিয়ে বলা হচ্ছে ব্যাংকের জন্য আপনার ন্যাশনাল আইডি নম্বর অথবা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর দিতে হবে। অনেকেই না বুঝে নম্বর দিয়ে দেন। কিন্তু কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনো এভাবে ফোন করে ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইবে না। এমন ফোন কল পেলে সবার আগে ওই প্রতিষ্ঠানের নম্বরে ফোন করুন এবং জানতে চান কোনো কারণে এমন ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন আসলেই আছে কিনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ফোনকল হয়ে থাকে প্রতারকদের ফাঁদ।

ওয়াই-ফাই সেটআপ

ওয়াই-ফাই সেটআপের ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড দিন। ডিফল্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। সিকিউরিটি এনক্রিপশন দেওয়ার বেলায় ডব্লিউপিএ-২ নির্বাচন করে দিন। বেশির ভাগ রাউটারে ওয়্যারড ইকুভ্যালেন্ট প্রাইভেসি (ডব্লিউইপি) বা ওয়্যারলেস প্রটেক্টেড অ্যাকসেস (ডব্লিউপিএ) ডিফল্ট আকারে দেওয়া থাকে। যেকোনো মূল্যে এ এনক্রিপশন বাদ দিন।

Exit mobile version