TechJano

১৩ তলা নিজস্ব ভবন পাচ্ছে বিটিআরসি

২০২.৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বিটিআরসি ভবন।  প্রকল্পের সব খরচ সরকার থেকে বহন করা হবে।  বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিজস্ব ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে।  আগামী জুলাই থেকে চালু হতে যাওয়া এই প্রকল্প সম্প‍ূর্ণ হবে ২০২০ সালের জুনে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শেরেবাংলা নগরে প্রকল্পটির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির নিজস্ব ভবন না থাকায় বর্তমানে ঢাকার রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের তিনটি ফ্লোরে ১,১২,০০০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া করে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাছাড়া, ভাড়া বাবদ বিটিআরসিকে প্রতি বছর ১১.০৮ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ সংস্থাটির দৈনন্দিন কাজসহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন- টেলিকম অপারেটরদের সেবার মান মনিটরিং, ৩-জি, ৪-জি ইত্যাদি তরঙ্গ বরাদ্দ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প ইত্যাদি সফলভাবে বাস্তবায়নে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, অপারেটরদের সেবার মান ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মনিটরিংসহ কতিপয় কাজের জন্য বিটিআরসি’র অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে যা নিজস্ব ভবন ছাড়া সম্ভব নয়।

২০০২ সালে ৪১ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়ে ভাড়াকৃত অফিসে বিটিআরসি এর কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমান জনবলের সংখ্যা ৪৫৫ জন। এছাড়া, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের ১০৫ জনবল নিয়ে ভাড়াকৃত ভবনে বর্তমানে ৫৬০ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী কর্মরত আছেন। ইতোমধ্যে আরও ৩২৭ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীর প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাছাড়া, দেশে টেলিডেনসিটি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস্তবতার নিরিখে পরবর্তী ১০ বছরে বিটিআরসি’র নিজস্ব জনবলের প্রয়োজন হবে ১৫৬৪ জন এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিস্টেম পুরোপুরি চালু হলে প্রয়োজনীয় জনবলের সংখ্যা হবে ৩১৫ জন। ফলে আগামী ১০ বছরে বিটিআরসি’র মোট জববলের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৮৭৯ জন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ/বিটিআরসি ভবনটি নির্মাণের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও প্রশাসনিক এলকায় প্লট নং-ই-৫/এ এর ১.০ একর জমি বরাদ্দ পায়। ইতোমধ্যে বিটিআরসি জমির সমুদয় মূল্য পরিশোধ করে এর মালিকানা লাভ করেছে। এর ফলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ১৮ তলা ফাউন্ডেশন ও ৩টি বেসমেন্টসহ ১৩ তলা ভবন নির্মাণের জন্য ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২২১০৭.৭২ লক্ষ টাকা প্রাক্কলন করে বাস্তবায়নকাল প্রস্তাব করা হয় অক্টোবর ২০১৬ হতে জুন ২০১৯ পর্যন্ত।

এ বিষয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, আমরা কাজ করছি, এগিয়ে যাচ্ছি, কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে। নিজস্ব ভবন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন আইন-২০০১ অনুসারে ৩১ জানুয়ারি ২০০২ তারিখে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গঠিত হয়। গঠনের পর হতে বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ খাতের সকল অপারেটরদেরকে সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করাসহ দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব পালন করে আসছে।

তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ

Exit mobile version