টেলিকম

ইতিহাস ও খুঁটিনাটি তথ্য ওয়ালটনের

By Baadshah

September 20, 2020

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের অন্যতম কোম্পানি ওয়ালটন। মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে রেফ্রিজারেটর, ওয়ালটনের সকল পণ্যই এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে কম বেশি দেখা যায়৷ তার পাশাপাশি ওয়ালটনের আউটলেট পৌছে গেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তবে আপনি কি জানেন ওয়ালটন সর্বপ্রথম ইস্পাত শিল্পের মাধ্যমে তাদের যাত্রা শুরু করে। এই আর্টিকেলে ওয়ালটন কম্পানীর খুটিনাটি সম্পর্কে আপনাদেরকে জানানো হবে সাথে থাকবে ওয়ালটনের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ধারণা।

আমরা সবাই জানি যে ওয়ালটন এর সদর দপ্তর ঢাকা অবস্থিত। এবং এটির যে প্রধান কারখানা রয়েছে সেটি অবস্থিত চন্দ্রাতে৷ অর্থাৎ গাজীপুরের চন্দ্রাতে৷ ওয়ালটন মূলত বিভিন্ন ধরনের টেলিযোগাযোগ পণ্য থেকে শুরু করে যানবাহন, ইলেকট্রনিক্স পণ্য সবকিছুই উৎপাদন করে।

ওয়ালটনের রয়েছে তিনটি প্রধান শাখা৷ আর এই তিনটি হচ্ছে ওয়ালটন মোটর, ওয়ালটন মোবাইল এবং ওয়ালটন ইলেকট্রনিক্স।

আনুমানিক ২০০০ সালের দিকে ওয়ালটন তাদের ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারে আনতে শুরু করে। তবে ওয়ালটন এর সূচনা হয়েছিল এসএম নজরুল এর হাত ধরে। তিনি ওয়ালটন এর প্রতিষ্ঠাতা৷ তবে বাণিজ্যিকভাবে ওয়ালটন দেশবাসীর কাছে পরাজিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে৷ সর্বপ্রথম ওয়ালটন কোম্পানিটিকে বাণিজ্যিকভাবে রূপ প্রদান করে নুরুল আলম রেজভী৷ যিনি কিনা এসএম নজরুল এর পুত্র।

বর্তমান সময় ওয়ালটনে মোট কর্মী সংখ্যা ২০ হাজারের কিছু বেশি ৷ এর মধ্যে অধিকাংশই প্রশিক্ষিত কর্মচারী৷ যারা ওয়ালটনের ফ্রিজ এবং মোটরসাইকেল তৈরি এবং তা বাজারজাত করণের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক ওয়ালটন এর বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান দ্বারা উৎপাদিত ইলেকট্রনিক্স পণ্য সমূহ

১.ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড : এটা তাদের যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৬ সালে৷ ২০০২ সালের দিকে ওয়ালটন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে৷ এবং ২০০২ সালের দিকে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গড়ে তুলে। এটি একটি অঙ্গ সংগঠন । বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত । অঙ্গসংস্থান গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে গড়ে তোলা হয় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

২. ওয়ালটন মাইক্রো টেক কর্পোরেশন: ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ওয়ালটন মাইক্রোটেক কর্পোরেশন এই দুইটির দপ্তর প্রায় পাশাপাশি অবস্থিত। অর্থাৎ এটি ও গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত । গৃহিণীরা তাদের পছন্দের যেসকল হোম এপ্লায়েন্স স্কুলে ব্যবহার করেন সেগুলো সব কিছুই তৈরি হয় ওয়ালটন মাইক্রোটেক কর্পোরেশনে। এছাড়াও এখানে তৈরি করা হয় টিভি ইলেকট্রনিক মোটর, রিচার্জেবল ব্যাটারি, এলইডি লাইট ইত্যাদি!

৩.ওয়ালটন মোবাইল : বর্তমান সময়ে ওয়ালটন মোবাইল গুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। অন্য যে সকল বিদেশি কোম্পানিগুলো রয়েছে তার সাথে ওয়ালটনের মোবাইল গুলো সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে, তরুণদের কাছে দেশি পণ্যের কদর টা একটু বেশি!

৪.ওয়ালটনের ল্যাপটপ : আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত কতকগুলি আইসিটি যন্ত্রাংশ রয়েছে। তার মধ্যে ল্যাপটপ অন্যতম৷ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ালটন ল্যাপটপ ইন্টেল ও মাইক্রোসফট এর সাথে তারা একটি চুক্তিবদ্ধ এবং তিনটি কোম্পানি যৌথ উদ্যোগে তাদের কাজ শুরু করেছে।

সত্তিকারের কথা বলতে কিছু বছর আগেও দেশি পণ্য হিসেবে ওয়ালটনের কদর খুব কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আধুনিক প্রযুক্তি এবং মানসম্পন্ন পণ্য বাজারে আসার ফলে বিদেশী পণ্যের চেয়ে এর চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হোম এপ্লায়েন্স এর জিনিস গুলো, যেমন: ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর।

আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে দেশি পণ্য হিসেবে ওয়ালটনের চাহিদা আরো বাড়বে । এবং তার পাশাপাশি বিশ্ব মানের পণ্য তৈরিতে বাংলাদেশের নাম আরো উজ্জ্বল করবে৷