তামিল সিনেমার পর্দায় তিনি ছিলেন ‘ম্যাস হিরো’। সংলাপ বললে হল কাঁপত। ভিলেন পেটালে শিস পড়ত। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন স্ক্রিপ্টটা হয়তো লিখছিলেন নীরবে—ক্যামেরার আড়ালে।
আজ Vijay তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। হাজার হাজার মানুষের করতালিতে যখন আকাশ কাঁপছে, ঠিক তখনই এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন Trisha Krishnan। মুখে ছোট্ট হাসি, চোখে অদ্ভুত এক গর্ব। যেন এই বিজয়ের পথচলার নীরব সাক্ষী তিনি।
কেউ বলে প্রেম। কেউ বলে বন্ধুত্ব। কেউ বলে কেমিস্ট্রি। আর কেউ বলে, রাজনীতির মঞ্চে নতুন জুটি তৈরি হচ্ছে!
কিন্তু সত্যিটা কী?
শোনা যায়, অনেক বছর ধরেই বিজয়ের সংসারে দূরত্ব। সম্পর্ক নাকি কাগজে ছিল, হৃদয়ে নয়। ব্যস্ততা, রাজনীতি, ক্ষমতা, স্টারডম—সব মিলিয়ে মানুষটা ধীরে ধীরে নিজের ঘর থেকেই হারিয়ে যাচ্ছিলেন। আর ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়ান তৃষা। সিনেমার সেটে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে গভীর নির্ভরতা।
তৃষা নাকি একবার বিজয়কে বলেছিলেন— “তুমি সবার নেতা হতে পারো, কিন্তু নিজের ভেতরের একাকীত্বের নেতা হতে পারো না।”
এই একটি লাইন নাকি বদলে দিয়েছিল বিজয়কে।
মানুষ ভাবে প্রেম মানেই হাত ধরা, লুকিয়ে দেখা করা, বা গোপন সম্পর্ক। অথচ সবচেয়ে ভয়ংকর প্রেম হলো সেইটা, যেখানে দুজন মানুষ একে অপরকে না ছুঁয়েও একে অপরের জীবনের সবচেয়ে বড় অভ্যাস হয়ে যায়।
আজ শপথ মঞ্চে বিজয়ের চোখে যে আত্মবিশ্বাস ছিল, অনেকে বলছে তার পেছনে নাকি তৃষার নীরব সমর্থনও আছে।
রাজনীতি, ক্ষমতা, সিনেমা—সবকিছুর মাঝেও মানুষ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষই। তারও ক্লান্তি থাকে, ভাঙন থাকে, কাউকে প্রয়োজন হয়।
হয়তো এ কারণেই ৬-৭ বছর পর অনেক সম্পর্ক নিঃশব্দে বদলে যায়। গবেষণাও বলে, দীর্ঘ সম্পর্কে আবেগের ক্ষয় শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ কথা বলা বন্ধ করে দেয়। আর সেই শূন্যতায় যদি কেউ এসে মন বুঝে ফেলে—তাহলেই শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে জটিল রসায়ন।
এখন প্রশ্ন একটাই— তৃষা কি কেবল সহশিল্পী? নাকি বিজয়ের জীবনের অসমাপ্ত প্রেমের অধ্যায়?
সময়ই হয়তো উত্তর দেবে।