বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হলেই একসময় মূল শব্দ ছিল—পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় ও কৃষি। কিন্তু গত এক দশকে আরেকটি শব্দ দ্রুত উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে—“স্টার্টআপ”।
ঢাকার ছোট কিছু প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত ডিজিটাল অর্থনৈতিক রূপান্তরের গল্পে পরিণত হয়েছে। ফিনটেক, ই-কমার্স, লজিস্টিকস, এডটেক, হেলথটেক, অ্যাগ্রিটেক—বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলো শুধু ব্যবসা গড়ে তুলছে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ধরনও বদলে দিচ্ছে।
তবে এই গল্প কেবল সাফল্যের নয়। এর ভেতরে আছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক বিনিয়োগ সংকট, নীতিগত জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং টিকে থাকার লড়াই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম হয় পরিণত ও টেকসই হবে, নয়তো ‘হাইপ’ আর অসম্পূর্ণ সম্ভাবনার মধ্যে আটকে যাবে।
এক দশকের উত্থান
২০১০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়। স্মার্টফোনের বিস্তার, মোবাইল ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের জনপ্রিয়তা নতুন ধরনের বাজার তৈরি করে।
বিশেষ করে bKash দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটায়। নগদ অর্থনির্ভর অর্থনীতিতে মোবাইলভিত্তিক পেমেন্ট মানুষের আচরণই বদলে দেয়।
এরপর একে একে উঠে আসে:
* অনলাইন কমার্স, * ফুড ডেলিভারি, * রাইড শেয়ারিং, * SME ডিজিটালাইজেশন, * অনলাইন শিক্ষা, * ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১,২০০-এর বেশি সক্রিয় স্টার্টআপ রয়েছে বলে বিভিন্ন শিল্পভিত্তিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব স্টার্টআপ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে।
কিন্তু সংখ্যাটি যত বড়ই শোনাক, বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এখনও দেশের জিডিপির মাত্র ০.০৩ শতাংশের সমান। অর্থাৎ সম্ভাবনা বিশাল হলেও মূলধন কাঠামো এখনো দুর্বল।
২০২৫: উত্থান না বিভ্রম?
২০২৫ সালকে অনেকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতের “টার্নিং পয়েন্ট” বলছেন। ওই বছর মোট স্টার্টআপ বিনিয়োগ দাঁড়ায় প্রায় ১২৪ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় এটি বড় বৃদ্ধি।
কিন্তু সংখ্যার আড়ালে ছিল অন্য বাস্তবতা।
মোট বিনিয়োগের প্রায় ৮৯ শতাংশ এসেছিল একটি মাত্র চুক্তি থেকে—বাংলাদেশের ShopUp এবং সৌদি আরবভিত্তিক Sary-এর ১১০ মিলিয়ন ডলারের মার্জার, যার মাধ্যমে গঠিত হয় SILQ Group।
অর্থাৎ পুরো ইকোসিস্টেমের প্রবৃদ্ধি মূলত একটি বড় চুক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল।
এটি দেখিয়ে দেয় যে:
* বিনিয়োগের গভীরতা এখনো সীমিত, * বড় চুক্তি ছাড়া বাজার দুর্বল, * এবং স্থানীয় মূলধন এখনও কার্যত অনুপস্থিত।
২০২৫ সালে মোট বিনিয়োগের প্রায় ৯৯ শতাংশ এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। স্থানীয় বিনিয়োগ ছিল ১০ লাখ ডলারেরও কম।
কেন বিদেশিরা আগ্রহী?
বাংলাদেশের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।
১. বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী
বাংলাদেশের মধ্যম বয়স প্রায় ২৬ বছর। প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশ করছে।
এটি তৈরি করছে:
* নতুন ভোক্তা বাজার, * ডিজিটাল পেমেন্টের চাহিদা, * অনলাইন সেবার বিস্তার, * এবং অ্যাপভিত্তিক অর্থনীতি।
২. দ্রুত ডিজিটাল গ্রহণ
বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার স্টার্টআপগুলোর জন্য বিশাল বাজার তৈরি করেছে। এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষও এখন মোবাইলভিত্তিক লেনদেন করছে।
৩. অনাবিষ্কৃত বাজার
কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সরবরাহব্যবস্থা, ক্ষুদ্রঋণ—অনেক বড় খাত এখনো পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। বিনিয়োগকারীরা এটিকে “আনট্যাপড অপারচুনিটি” হিসেবে দেখছেন।
নতুন মোড়: ব্যাংকভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল
২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে। চালু হয় **Bangladesh Startup Investment Company (BSIC)** এবং এর “Onkur Bangladesh Fund 1”।
এটি দেশের প্রথম বড় ব্যাংক-সমর্থিত স্টার্টআপ বিনিয়োগ কাঠামো।
৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো প্রতি বছর তাদের নিট মুনাফার ১ শতাংশ এই তহবিলে দেবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য:
* সিড, * লেট-সিড, * এবং সিরিজ-এ পর্যায়ের স্টার্টআপকে অর্থায়ন করা।
কারণ এতদিন বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ত “মিসিং মিডল”-এ। অর্থাৎ আইডিয়া পর্যায় পার হওয়ার পর বড় হওয়ার জন্য যে মধ্যম পর্যায়ের মূলধন প্রয়োজন, সেটিই পাওয়া যেত না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগান্তকারী নীতিমালা
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করে:
* Startup Finance Master Circular * Share Swap Circular
এগুলোকে অনেকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতের “রেগুলেটরি রেভল্যুশন” বলছেন।
স্টার্টআপ ফাইন্যান্স মাস্টার সার্কুলার
এই নীতির মাধ্যমে:
* ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়, * ব্যাংকগুলো ০.৫ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে, * স্টার্টআপকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া যাবে।
স্টার্টআপ ঋণের সীমাও ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ কোটি টাকা করা হয়।
শেয়ার সোয়াপ সার্কুলার
এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এতদিন বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কাঠামো গঠন করতে সমস্যায় পড়ত। নতুন নীতির ফলে এখন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার বিনিময় এবং বিদেশে হোল্ডিং স্ট্রাকচার গঠন সহজ হয়েছে।
এটি আন্তর্জাতিক ভিসি ফান্ডের কাছে বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগযোগ্য করে তুলতে পারে।
ফিনটেক: বাংলাদেশের ডিজিটাল মেরুদণ্ড
বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে শক্তিশালী খাত এখনও ফিনটেক।
bKash ইতোমধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়নের ইউনিকর্নে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে Nagad দ্রুত ডিজিটাল লেনদেনের বাজার সম্প্রসারণ করেছে।
এখন ফিনটেকের নতুন যুদ্ধ চলছে:
* ডিজিটাল ঋণ, * ইনস্যুরটেক, * SME ফাইন্যান্স, * QR পেমেন্ট, * এবং এমবেডেড ফাইন্যান্সে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের “Bangla QR” উদ্যোগও নগদবিহীন অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
সুপার অ্যাপ অর্থনীতির উত্থান
Pathao শুধু রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম নয়, এখন ধীরে ধীরে “সুপার অ্যাপ” মডেলে যাচ্ছে।
রাইড, ডেলিভারি, পেমেন্ট, লজিস্টিকস—সবকিছু এক অ্যাপে আনার প্রবণতা এখন বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে।
এটি চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির মডেলের সঙ্গে মিল তৈরি করছে।
পেপ্যাল সম্ভাবনা বাংলাদেশে পেপ্যাল চালু হওয়া নিয়ে আলোচনাটি দীর্ঘদিনের এক অন্তহীন প্রতীক্ষার গল্পের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে আশার সঞ্চার, সরকারি ঘোষণা এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে দেখা গেছে; তবে বারবারই এর বাস্তবায়ন থমকে গেছে।
অবশ্য বর্তমান প্রেক্ষাপট মৌলিকভাবে কিছুটা ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সরাসরি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, পেপ্যাল চালুর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে পেপ্যাল নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছিল মূলত গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং বড় ধরনের প্রচারণার পর ২০১৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছিল। তবে চালু হওয়া সেই পরিষেবাটি ছিল মূলত পেপ্যালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘জুম’ (Xoom), যার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। জুমের মাধ্যমে প্রবাসীরা বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে পারলেও ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক অর্থ গ্রহণ বা উদ্যোক্তাদের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ফিচারের অভাব ছিল এতে। পরবর্তীতে ২০২১ সালেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের কাছে ‘পেপ্যাল আসছে’ বাক্যটি একটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য পেপ্যাল কেবল একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম নয়—বরং এটি বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি অপরিহার্য সেতু।
কৃষি ও গ্রামীণ প্রযুক্তি: সবচেয়ে বড় অসম্পূর্ণ বাজার
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো শহরে নয়, গ্রামে।
iFarmer-এর মতো প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকের কাছে:
* অর্থায়ন, * বাজারসংযোগ, * সরবরাহব্যবস্থা, * এবং তথ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে।
কৃষি এখনও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত। কিন্তু এটি সবচেয়ে কম ডিজিটালাইজড খাতগুলোর একটি।
সবচেয়ে বড় সংকট: স্থানীয় বিনিয়োগের অভাব
বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—দেশীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অভাব।
বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলে পুরো ইকোসিস্টেম কেঁপে ওঠে।
এখানে:
* পেনশন ফান্ড নেই, * শক্তিশালী অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্ক নেই, * প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সীমিত, * ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক।
ফলে স্টার্টআপগুলো টিকে থাকার জন্য বিদেশি মূলধনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
‘স্টার্টআপ উইন্টার’
বিশ্বব্যাপী সুদের হার বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগ সংকোচনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা এখন “স্টার্টআপ উইন্টার” শব্দটি ব্যবহার করছেন।
এর লক্ষণ:
* কর্মী ছাঁটাই, * ফান্ডিং কমে যাওয়া, * স্টার্টআপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, * মূল্যায়ন কমে যাওয়া, * এবং মুনাফার চাপে পড়া।
একসময় “গ্রোথ অ্যাট অল কস্ট” ছিল মূল মন্ত্র। এখন বিনিয়োগকারীরা চাইছেন:
* লাভজনকতা, * ইউনিট ইকোনমিক্স, * সুশাসন, * এবং টেকসই ব্যবসা।
লুকানো কর: বাংলাদেশের লজিস্টিক সংকট
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয়ে খরচ করে, যা বৈশ্বিক গড়ের অনেক বেশি।
সমস্যাগুলোর মধ্যে আছে:
* ফাঁকা ট্রাক চলাচল, * দুর্বল গুদামব্যবস্থা, * সীমিত কোল্ড চেইন, * ধীর সরবরাহব্যবস্থা।
ফলে অনেক স্টার্টআপকে নিজেদেরই ব্যয়বহুল ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হয়।
ডিজিটাল বিভাজন
বাংলাদেশে শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল ব্যবধান এখনও বিশাল।
শহরে ইন্টারনেট প্রবেশ অনেক বেশি হলেও গ্রামে তা অনেক কম। গ্রামীণ ডিজিটাল সাক্ষরতার হারও সীমিত।
এটি স্টার্টআপ সম্প্রসারণের বড় বাধা।
এআই: নতুন সুযোগ নাকি নতুন বৈষম্য?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন বাংলাদেশের স্টার্টআপ ভবিষ্যতের বড় আলোচ্য বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ হয়তো বৈশ্বিক AI অবকাঠামোতে নেতৃত্ব দেবে না, কিন্তু “Applied AI Economy” হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সম্ভাব্য খাত:
* বাংলা ভাষাভিত্তিক AI, * নিউজরুম অটোমেশন, * গার্মেন্টস অপটিমাইজেশন, * কৃষি বিশ্লেষণ, * SME অটোমেশন, * AI কাস্টমার সার্ভিস।
বড় প্রশ্ন: এক্সিট কোথায়?
স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম টেকসই হতে হলে প্রয়োজন:
* IPO, * অধিগ্রহণ, * সেকেন্ডারি সেল, * এবং আন্তর্জাতিক এক্সিট।
বাংলাদেশে এখনো বড় এক্সিট খুব কম।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ:
* মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া, * মুদ্রানীতি, * এবং এক্সিট কাঠামোর সীমাবদ্ধতা।
স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১: স্বপ্ন নাকি বাস্তবতা?
সরকারের “Smart Bangladesh 2041” ভিশনে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে:
* ৫০টি ইউনিকর্ন স্টার্টআপ, * এবং জিডিপিতে ICT খাতের বড় অবদান।
কিন্তু বাস্তবতা নির্ভর করবে:
* নীতির বাস্তবায়ন, * স্থানীয় মূলধন গঠন, * দক্ষ মানবসম্পদ, * এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আস্থার ওপর।
শেষ কথা বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাত এখন আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই। এটি এমন এক বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে পারে।
কিন্তু এই যাত্রা সহজ নয়।
বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক পরীক্ষার মধ্যে আছে—দেশটি কি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে ওঠার আগেই একটি সফল ভেঞ্চার অর্থনীতি তৈরি করতে পারবে?
যদি পারে, তবে আগামী এক দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
আর যদি না পারে, তাহলে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম হয়তো থেকে যাবে সম্ভাবনার গল্প হয়েই।