টিকটক ও ইউটিউবের জনপ্রিয় নির্মাতাদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে টানতে ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামে নতুন একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে ফেসবুক। এক ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি জানায়, এই প্রোগ্রামের আওতায় নতুন নির্মাতাদের নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা এবং কন্টেন্টের রিচ (বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো) বৃদ্ধির সুবিধা দেওয়া হবে।
ফেসবুকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তারা মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্মাতাদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
নতুন এই প্রোগ্রামে আয়ের উপায়:
অন্য প্ল্যাটফর্মে (ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউব) যাদের শক্তিশালী ফলোয়ার বেজ আছে, তারা ফেসবুকে রিলস (Reels) শেয়ার করার বিনিময়ে প্রথম তিন মাস নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাবেন। আয়ের হার নিচে দেওয়া হলো:
১ লাখ ফলোয়ার: যাদের অন্য প্ল্যাটফর্মে অন্তত ১ লাখ ফলোয়ার আছে, তারা মাসে ১,০০০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) আয় করতে পারবেন।
১০ লাখ ফলোয়ার: ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার থাকলে মাসে আয়ের পরিমাণ হবে ৩,০০০ ডলার (প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা)।
বাড়তি সুবিধা:
এই প্রোগ্রামের আওতায় যোগ্য নির্মাতারা ফেসবুকের প্রচলিত কঠিন শর্তগুলো (যেমন- নির্দিষ্ট ফলোয়ার বা ওয়াচ টাইম) পূরণ ছাড়াই সরাসরি মনিটাইজেশন টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর ফলে তিন মাসের বোনাস সময় শেষ হলেও নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করে আয় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
ফেসবুকের ক্রিয়েটর প্রোডাক্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ার লিভনে জানান, নতুন প্ল্যাটফর্মে একদম শূন্য থেকে শুরু করার ভীতি কাটাতেই এই উদ্যোগ। যদি কোনো নির্মাতার দর্শক তৈরিতে তিন মাসের বেশি সময় লাগে, তবে ফেসবুক তাদের কন্টেন্টের রিচ বাড়িয়ে সহায়তা চালিয়ে যাবে।
নতুন মেট্রিক্স:
নির্মাতারা যাতে তাদের আয় আরও স্বচ্ছভাবে বুঝতে পারেন, সেজন্য ফেসবুক ‘কোয়ালিফাইড ভিউস’ এবং ‘আর্নিং রেট’ নামে নতুন ফিচার যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে প্রতি ১ হাজার ভিউতে কত আয় হচ্ছে এবং কোনো ভিউ কেন আয়ের জন্য অযোগ্য হলো, তা বিস্তারিত জানা যাবে।